স্বপ্না চক্রবর্তী : ‘বাংলাদেশের কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত দেখে অভিভূত হয়ে গিয়েছিলেন পাহাড়ের দেশের ছেলে লোটে শেরিং। তার কণ্ঠ থেকে এক অদ্ভুত স্তুতি বেরিয়ে ছিলো সেদিন যা অনেক বাঙালির মুখেও শোনা যায় না। বলা যায় কক্সবাজারের প্রেমে পড়ে গিয়েছিলেন ভুটানের এই হবু প্রধানমন্ত্রী’ লোটে শেরিং সম্পর্কে এমনটাই বলছিলেন তার বন্ধু-সহপাঠী শহীদ সোহরাওয়াদী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন। পড়ালেখার সূত্রে ভুটানের এই হবু প্রধানমন্ত্রীর জীবনবৃত্তান্তে বাংলাদেশের নামটি দেখে গর্বে বুক ফুলে উঠে সহপাঠীদের। শেরিং তার দেশের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন এমন সংবাদে এতটাই উচ্ছসিত তার সহপাঠীরা যে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তার শপথগ্রহণের অনুষ্ঠানে দল বেঁধে উপস্থিত থাকার পরিকল্পনা চলছে। সব ঠিক ঠাক থাকলে পাহাড় ঘেরা ছোট্ট দেশটিতে লোটে শেরিংয়ের শপথ গ্রহণের পাশাপাশি বিশ্বের বুকে বাঙ্গালীদের নাম আরও উজ্জ¦ল হয়ে উঠবে বলেই মনে করছেন তার সহপাঠীরা।
ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, শেরিংয়ের মতো সদা বিনয়ী আর পড়ালেখার প্রতি এমন আন্তরিক ছাত্র আমাদের ২৮তম ব্যাচে খুব কমই ছিলো। লোটে ছিলো আমাদের ব্যাচের অন্যতম সেরা ছাত্র। ১৯৯১ সালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ভর্তির পর আমরা হোস্টেলে পাশাপাশি ভবনে থাকতাম। শেরিং অন্যান্য বিদেশী শিক্ষার্থীদের সাথে নতুন ভবনে থাকতো। প্রতিদিনের পড়াশুনার কাজ প্রতিদিন শেষ করতো। ছাত্র জীবন থেকে সে খুবই বন্ধুসুলভ ছিল কথা বলতো খুবই কম। নেপাল আর ভারতের সহপাঠীদের সাথে তার সখ্যতা ছিলো সবচেয়ে বেশি। পড়াশোনার পাশাপাশি শেরিং টেবিল টেনিস, ক্যারাম খেলাসহ অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সাথেও জড়িত ছিলেন বলে জানান মামুন।
ডা. মামুন জানান, লোটে শেরিং ১৯৯১ সালে বিদেশি কোটায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি হন এবং ১৯৯৯ সালে এমবিবিএস পাশ করে ঢাকায় সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিয়ে এফসিপিএস কোর্স সমাপ্ত করেন। এছাড়াও তিনি অধ্যাপক ডা. খাদেমুল ইসলামের অধীনে জেনারেল সার্জারি বিষয়ে ৬ মাসের ইন্টার্নশিপ করেন বলেও জানান তিনি। শেরিং ২০০৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে ছিলেন বলে উল্লেখ করে মামুন বলেন, বাংলাদেশের গ্রামগুলো খুব প্রিয় ছিলো তার। প্রায় সময়ই বন্ধুদের সাথে তাদের গ্রামের বাড়িতে ঘুরতে যেত।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে সিভিল সার্ভিস থেকে অব্যাহতি নিয়ে লোটে শেরিং রাজনীতিতে যোগ দেন। গত ১৫ সেপ্টেম্বর ভুটানে অনুষ্ঠিত প্রথম দফা নির্বাচনে তার রাজনৈতিক ডিএনটি দল জয়লাভ করে চমক সৃষ্টি করে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে প্রথম দফা নির্বাচনে হেরে যান।
ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, পড়ালেখা শেষ হয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘদিন তার সাথে যোগাযোগ না থাকলেও পরবর্তীতে ২০১৬ সালে ওই দেশ থেকে পড়তে আসা কিছু শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে শেরিংয়ের ব্যাপারে জানতে পেরে তার মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করে কথা বলেন সহপাঠীরা। একই উচ্ছ্বাস তখনো শেরিংয়ের কণ্ঠে। বলেন, খুব মিস করি সহপাঠীদেরকে। মিস করি বাংলাদেশকে।