প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাপেক্সের গ্যাস অনুসন্ধানে দীর্ঘসূত্রতায় অপচয় হচ্ছে কোটি কোটি টাকা

শাহীন চৌধুরী: পেট্রোবাংলার অধীনস্থ রাষ্ট্রীয় তেল গ্যাস অনুসন্ধান কোম্পানি বাপেক্সের গ্যাস অনুসন্ধান কাজে দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে একদিকে যেমন গ্যাস সংকট সমাধানে তারা কোনও অবদান রাখতে পারছে না তেমনই অনুসন্ধানের নামে কোটি কোটি টাকা অপচয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
সূত্র জানায়, বাপেক্স নিজস্ব রিগ দিয়ে ব্রাম্মণবাড়িয়ার কসবা ভূখন্ডে ৩ হাজার মিটার গভীরতা নির্ধারণ করে এলাকায় একটি অনুসন্ধান কুপ খননের কাজ প্রায় মাস পূর্বে শুরু করে। কসবা কুপটি ২ হাজার ৬০০ মিটার পর্যন্ত খনন করে ইতিপূর্বে গ্যাস মজুতের সন্ধান না পাওয়ায় আরও ৩০০ মিটার অতিরিক্ত খনন করা হচ্ছে। একই এলাকায় একই সময়ে আরেকটি রিগ দ্বারা সালদা ভূখন্ডে ৩ হাজার ৫০০ মিটার গভীরতা নির্ধারণ কওে কুপ খনন কাজ শুরু করা হয়। ২ হাজার ৬০০ মিটার পর্যন্ত কুপ খনন করে গ্যাসের প্রাথমিক আলামতের ভিত্তিতে কুপে এখন পরীক্ষনের কাজ চালানো হচ্ছে।

সূত্রমতে, কসবা ও সালদার অধিকাংশ গ্যাসের ভূগঠন ভারতের মধ্যে অবস্থিত। দীর্ঘ সময় ধরে ভারত উক্ত ভূগঠন থেকে গ্যাস তুলছে বিধায় বাংলাদেশ ভূখন্ডে বাণিজ্যিক গ্যাস মজুতের সম্ভাবনা ক্ষীন বা নেই বললেই চলে। অথচ বাপেক্সে ৩-ডি সাইসমিক সার্ভের ভিত্তিতে উক্ত ভূখন্ডে গ্যাস প্রাপ্তি নিশ্চিত করে কুপ খননের স্থান চিহ্নিত করে। গ্যাস পাওয়া না গেলে ওই স্থানে কুপ খননের নামে গ্চা যাবে শত শত কোটি টাকা।

প্রায় ২ বছর আগে বাপেক্সে আজারবাইজানের কোম্পানি সোকারের সঙ্গে ৩টি কুপ খননের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করে। ওই চুক্তির আওতায় নির্ধারিত সময়ের ৬ মাস পরে চট্টগ্রামের সেমুতাং গ্যাস ভূখন্ডে নির্ধারিত ৩ হাজার মিটার গভীর কুপ খননের কাজ শুরু করে গত জুন মাসে। এ পর্যন্ত তারা মাত্র ১ হাজার ১৪৩ মিটার কুপ খনন করতে পেরেছে। অথচ বাংলাদেশে অন্যান্য বিদেশী কোম্পানি গ্যাজপ্রম, শেভরন, তাল্লো/ক্রিস এনার্জি ৩ হাজার ৫০০ মিটার পর্যন্ত কুপ খননের কাজ মাত্র ২ মাসেই সম্পন্ন করে। কুপের একাধিক স্তরে গ্যাস পরীক্ষন ও উৎপাদনক্ষম করতে ১৫ থেকে ৩০ দিন সময় লাগে। অর্থাৎ মাত্র ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে কুপ খনন ও গ্যাস উৎপাদন শুরু করা হয়।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাপেক্স মাসের পর মাস কুপ খননের জন্য সময় নিয়ে তাদের অনভিজ্ঞতারই পরিচয় দিচ্ছে। পক্ষান্তরে সরকারের ক্ষতি হচ্ছে শত শত কোটি টাকা। বাপেক্স তাদের নিজস্ব রিগ ব্যবহার করায় ক্ষতির পরিমান কিছুটা কম লাগছে। ভাড়া করা রিগ দিয়ে খনন করতে হলে ক্ষতির পরিমান মারাত্মক আকার ধারন করতো। কারন প্রতিদিন তাদের একটি রিগের ভাড়া গুনতে হতো ৪০ হাজার ডলার।
বাপেক্সের এই কালক্ষেপনের ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম রুহুল ইসলাম চৌধুরীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি আমাদের অর্থনীতিকে বলেন, কসবা এবং সালদা কুপ খননের সময় এখনো ৬ মাস হয়নি। তিনি অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় ও ধীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যেই ওই দুটি স্থানে খনন কাজ শেষ হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ