শিরোনাম

প্রকাশিত : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ০৫:১১ সকাল
আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ০৫:১১ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কওমি মাদরাসাগুলির স্বপ্ন পূরণ করলো সরকার

আমিন মুনশি : কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসকে স্নাতকোত্তর সমমানের স্বীকৃতির আইনি বৈধতা দিয়ে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করেছে সরকার। ‘আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’-এর অধীনে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) সমমান প্রদান বিল ২০১৮’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

আজ বুধবার (১৯ সেপ্টেম্বর) শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বিলটি পাসের প্রস্তাব উপস্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে বিলটি পাসের আগে জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম বলেন, আমি আশা করছি আমরা সকলে এই বিলের ঐতিহাসিক পটভূমি গুরুত্ব ও তাৎপর্য আমরা উপলব্ধি করতে পারছি। ২০০ বছরের অধিক সময় ধরে কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীরা স্বীকৃতির জন্য আন্দোলন করে অাসছে। ১৫ লক্ষ শিক্ষার্থী এ শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে। ৬টি বোর্ড রয়েছে। প্রায় ৩ থেকে ৪ লক্ষ শিক্ষার্থী প্রতি বছর শিক্ষা সমাপ্ত করছে। এখন তাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির প্রয়োজন রয়েছে।

জনমত যাচাই ও বাছাইয়ের ব্যাপারে তিনি বলেন, অন্যান্য বিলের ক্ষেত্রে যে পরিমাণ জনমত যাচাই ও বাছাই করা হয় তার চাইতে বেশি এ বিলের ক্ষেত্রে হয়েছে। দীর্ঘ নয় বছর ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদরাসার বোর্ডগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা করে আসছেন। এখন আর নতুন করে কোন যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন আসে না।

তিনি আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কওমি ধারার শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি সম্মান জানিয়ে এ স্বীকৃতি প্রদান করেছেন। আমি মনে করি, বিলটি পাস হলে ঐতিহাসিকভাবে তা লিখিত থাকবে। যেমনটা সাংসদ কাজী ফিরোজ রশিদ বলেছেন, বিলটি এখনই পাশ করে দেওয়া হোক। এখন আর জনমত যাচাই-বাছাইয়ের দরকার নেই।

এর আগে সংসদে এমপি প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দীন নদভী এ বিলকে সরকারের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত বলে ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, কওমি মাদরাসাকে ইসলাম প্রচারের কেল্লা হিসেবে জানি। তাদেরকে সরকারি সনদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেশ-বিদেশে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। এসময় তিনি কওমি মাদরাসা সনদের সরকারি স্বীকৃতির আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, কওমি মাদরাসার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে এবং দারুল উলুম দেওবন্দের মূলনীতিগুলোকে ভিত্তি করে এই সমমান দেয়া হলো।

বলা হয়েছে, এই আইন বাংলাদেশের দারুল উলূম দেওবন্দের নীতি, আদর্শ ও নেসাব (পাঠ্যসূচি) অনুসরণে পরিচালিত হবে কওমি মাদরাসাগুলোর দাওয়ারে হাদিস এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

বিলে, এই সমমান দেয়ার লক্ষ্যে কওমি মারাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকুল মাদারাসিল আরাবিয়া- বেফাক সভাপতি হিসেবে পদাধিকার বলে আল্লামা শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ১১ এপ্রিল দাওরায়ে হাদিসকে স্নাতকোত্তর সমমানের স্বীকৃতি দেয় সরকার। এরপর এই স্বীকৃতি আইনি বৈধতা দিতে উদ্যোগ নেয় সরকার। গত ১৩ আগস্ট এই আইনের খসড়ার অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।

আমাদেরসময়.কম whatsapp চ্যানেল ফলো করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়