শিরোনাম

প্রকাশিত : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ০১:২১ রাত
আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ০১:২১ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ক্ষমতা ছাড়ার পর একটি দিনও মুক্তভাবে রাজনীতি করতে পারিনি : এরশাদ

রফিক আহমেদ : সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, ক্ষমতা ছাড়ার পর একটি দিনও মুক্তভাবে রাজনীতি করতে পারিনি, আজো পারিছ না। তবে, আগামী নির্বাচনে জয়ী হয়ে মুক্ত রাজনীতিবিদ হবো। বুধবার বিকেল ৫টায় বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক সম্মেলন সিটিতে দু’দিনব্যাপী তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক এক কর্মশালার সমাপনী অধিবেশনে একথা বলেন।

সাবেক রাষ্ট্রপতি বলেন, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করবো, দেশে সুশাসন ফিরিয়ে দেবো। দেশের প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ করে সহমর্মীতা আর ভালোবাসার রাজনীতি উপহার দেবো। আমরা কখনো প্রতিহিংসার রাজনীতি করিনি। যারা প্রতিহিংসার রাজনীতি করে আমাকে জেলে দিয়েছে, আমার পার্টি ধংস করতে চেয়েছে আমরা তাদের কথা মনে রাখবো। দেশের মানুষও তাদের কথা মনে রাখবে। নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে ৫ কোটি ভোটারের কাছে যাবো। নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের কথাগুলো তুলে ধরবো। আমার বিশ্বাস তারা আমাদের ভোট দিয়ে জয়ী করবে।

১৯৯৬ সালের নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, আমরা সমর্থন না দিলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসেতে পারতো না। কিন্তু তাদের কাছে আমরা সুবিচার পাইনি, আমরা সবার কাছেই প্রতারিত হয়েছি। আমাকে জেলে পাঠিয়ে ৫ কোটি টাকা জরিমানাও করেছিলো। আমাদের বন্ধু আমরাই, কোন রাজনৈতিক দল আমাদের বন্ধু নয়। আমাদের প্রকৃত বন্ধু কৃষক, শ্রমিক এবং মেহনতী মানুষ। আমরা তাদের জন্যই রাজনীতি করি।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে তাদের সাড়ে ৫ হাজার মামলা এবং আওয়ামী লীগ ৬ হাজার মামলা তুলে নিয়েছে। আমার নামের মামলাগুলো এখনো চলছে। জেল খেটেছি, কষ্ট পেয়েছি অনেক... আজ উজ্জীবিত জাতীয় পার্টি দেখে মনের সব কষ্ট দূর হয়েছে। তিনি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করেন ক্ষমতায় যেতে তোমারা প্রস্তুত? তখন সবাই সমস্বরে হাত তুলে তাদের সমর্থন ব্যক্ত করে বলেন, নতুন করে শপথ নিলাম নতুন বাংলাদেশ গড়বো, কেউ আমাদের আটকাতে পারবে না। এবার আমরা শৃংখলমুক্ত হবোই।

এরআগে জাতীয় পার্টির দলীয় অ্যাপস এর উপর ধারণা দেন চেয়ারম্যানের তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা শফিউল্লাহ আল মুনির।

পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, এরশাদের ন’বছরের স্বর্ণযুগের কথা আমরা সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে পারলে তারা জাতীয় পার্টিকেই ভোট দেবেন।

পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, যারা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাজানো দেশ তছনছ করেছে, তাদের শাস্তি পেতেই হবে। বিএনপির কথা উল্লেখ করে প্রশ্ন রাখেন, আমাদের উপর অহেতুক নির্যাতন এখন বিএনপি কি ভালো আছে?

দিনভর তথ্য প্রযুক্তি এবং জাতীয় পার্টির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সেশান পরিচালনা করেন প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায়, জিয়া উদ্দিন বাবলু এমপি ও মো. আজম খান। উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য এম এ সাত্তার, মো. হাফিজ উদ্দিন, সৈয়দ আবদুল মান্নান, মাহজমুদুল ইসলাম চৌধুরী, মশিউর রহমান রাঙা, নুর-ই হাসনা লিলি চৌধুরী, এসএম ফয়সল চিশতী, সোলায়মান আলম শেঠ, অ্যাড এম রশিদ, নাসরিন জাহান রত্না, মেজর (অব.) খালেদ আকতার, মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা, শফিকুল ইসলাম সেন্টু। সংসদ সদস্যদের মধ্যে লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি, শওকত চৌধুরী, আমির হোসেন ভূইয়া, সালাহউদ্দিন আহমেদ মুক্তি, ডা. রস্তম আলী ফরাজী, রওশন আরা মান্নান, মেহজাবিন মোর্শেদ, নুরুল ইসলাম তালুকদার, খোরশেদ আরা হক, মেরিনা রহমান। চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ দিদার বক্স, রিন্টু আনোয়ার ও অ্যাড. রেজাইল ইসলাম ভূইয়া।

আমাদেরসময়.কম whatsapp চ্যানেল ফলো করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়