শিরোনাম

প্রকাশিত : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:১৭ দুপুর
আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:১৭ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কারাগারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না, জুলাই মাসে তাকে দেখে এমন আশঙ্কাই হয়েছিল

সাব্বির আহমেদ : বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর প্রতিবেদন দাখিল করেছে ৫ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড। ওই প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপিপন্থী পেশাজীবীদের সংগঠন ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এর চিকিৎসকরা বলছেন, আমরা যা ধারণা করেছি তাই হয়েছে। গত জুনে আমরা কারাগারে ভেতর ম্যাডাম খালেদা জিয়াকে দেখে এসে এমন আশঙ্কা করেছিলাম। তবে 'খালেদা জিয়া কারাগারে থাকার কারণে তার শরীরে নতুন কোনো গুরুতর রোগ বা উপসর্গ যোগ হয়নি' মেডিকেল বোর্ডের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহ আল হারুনের এমন মন্তব্য মানতে নারাজ ড্যাব নেতারা।

বুধবার ড্যাবের একাধিক নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা ওই প্রতিবেদককে এমনটাই জানান।

গেল রোববার খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহ আল হারুনের হাতে ওই প্রতিবেদন তুলে দেন মেডিকেল বোর্ডের প্রধান মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক এম এ জলিল।

তার আগেরদিন পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড পুরানো ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন।

প্রতিবেদনের দেখা গেছে, খালেদা জিয়ার বাম হাতের সমস্যাসহ (বিকলাঙ্গতা) রিউমাটয়েড আর্থরাইটিস (বাতজনিত সমস্যা), সার্ভাইকাল স্পন্ডিলোসিস, লাম্বার স্পন্ডিলোসিস, বাম কোমরের অস্থিসন্ধিতে অস্ট্রিয়আর্থরাইটিস, অস্ট্রিয়পরিসিস, সিনাইল ট্রেমর, এলার্জি জনিত সমস্যার কারণে চোখ শুকিয়ে যাওয়ার লক্ষণ রয়েছে। এছাড়া তার দুই হাঁটুই প্রতিস্থাপিত।

তবে, খালেদা জিয়ার কোন ডায়াবেটিক অথবা উচ্চরক্তচাপ জনিত সমস্যা নেই বলে জানিয়েছে মেডিকেল বোর্ড।

এ প্রতিবেদন পর্যবেক্ষণ করে খালেদা জিয়ার চক্ষু চিকিৎসক ও ড্যাবের সহ-সভাপতি ডা.আব্দুল কুদ্দুস বলেন, 'আমি দীর্ঘদিন ধরে ম্যাডামের চোখের চিকিৎসা করে আসছি৷ উনার চোখে এমনিতে অনেক সমস্যা। বহুদিন আগে থেকে উনি চোখে ওষুধ ব্যবহার করছেন। ম্যাডামের শরীরে 'জয়েন পেইন' আছে। আর জয়েন পেইন থাকলে চোখে সমস্যা হবেই। শরীরের যেকোনো সমস্যাতেই চোখের ওপর চোট পড়ে। কারাগারে যাওয়ার পর গত রমযানে খালেদা জিয়াকে দেখে এসে মনে হয়েছিল, ম্যাডামের দু’চোখ ধীরে ধীরে শুকিয়ে যাবে। কারণ উনার এলার্জিজনিত সমস্যা আগে থেকে রয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে একসময় অন্ধ হয়ে যেতে পারেন তিনি। এসব বিষয়ে আমরা ওইসময় কারাগার থেকে বের হয়ে জানিয়েছি।

তিনি বলেন, তিন মাস হলো উনার চোখ দেখা হচ্ছে না। সমস্যা আরও বেড়েছে কিনা- তাও বলতে পারব না।

ড্যাব এর সহ-সভাপতি ডা. বজলুল গণি ভূঞা বলেন, ইতোপূর্বে ডা. এফ এম সিদ্দিকের নেতৃত্বে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করে খালেদা জিয়াকে বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তির সুপারিশ করা হয়েছে। কিন্তু সরকার বারবারই খালেদা জিয়ার পছন্দ অনুযায়ী চিকিৎসা ও বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা না করে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন। এতে করে জনগনের মধ্যে এই ধারণা প্রবল থেকে প্রবলতর হচ্ছে যে জেলখানায় চিকিৎসা না দিয়ে জনপ্রিয় নেত্রীকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

সরকার তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা না করায় বিএনপি নেত্রীর শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি হয়েছে দাবি করে খালেদা জিয়ার আরেক চিকিৎসক বলেন, ‘তিনি অন্যের সাহায্য ছাড়া বিছানা থেকে উঠতে পারছেন না। কারাগারের এই নিঃসঙ্গতা তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থার আরও অবনতি ও জটিল আকার ধারণ করেছে।’

প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে বোর্ড বেগম জিয়াকে বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন যে হাসপাতালে সব ধরনের স্পেশালিটি আছে। এক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল ইউনিভার্সিটি (বিএসএমএমইউ) হাসপাতাল যুতসই হতে পারে বলে মত তাদের।

তবে বিএসএমএমইউর পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহ আল হারুন জানান, খালেদা জিয়া কারাগারে থাকার কারণে তার শরীরে নতুন কোনো গুরুতর রোগ বা উপসর্গ যোগ হয়নি। তার পুরনো যে আর্থ্রাইটিস রোগ রয়েছে, সে কারণেই তিনি অসুস্থ।

তবে মেডিকেল বোর্ডে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত কোনো চিকিৎসক না রাখায় এর সমালোচনা করে আসছিলেন বিএনপি নেতারা। এখন সেই মেডিকেল বোর্ডের কর্মকাণ্ড এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদনের ব্যাপারে বিএনপি অনাস্থা প্রকাশ করেছে।

সপ্তাহ-খানেক আগে একটি দুর্নীতির মামলায় ঢাকায় নাজিমউদ্দিন রোডের কারাগারের ভিতরে অস্থায়ী আদালতে হুইল চেয়ারে করে খালেদা জিয়াকে হাজির করা হয়েছিল।

সেই প্রেক্ষাপটে সরকারের গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাদের প্রতিবেদনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালেই চিকিৎসার সুপারিশ করেছে।

আমাদেরসময়.কম whatsapp চ্যানেল ফলো করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়