শাকিল আহমেদ : গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন বলেছেন, আগামী ২০২০ সালের মধ্যে পোড়া ইট ব্যবহার বন্ধের কার্যক্রম চলছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে সংসদে একটি প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
বুধবার সকালে সিরডাপ মিলনায়তনে নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম বাংলাদেশ আয়োজিত' পোড়া ইটের বিকল্প কংক্রিট ব্লক’ শীর্ষক সেমিনারে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
মোশারফ হোসেন বলেন, টেকসই উন্নয়নে পোড়া ইটের বিকল্প কংক্রিট ব্লক। কোনো ব্রিকস খোয়া দিয়ে রাস্তা তৈরি করবেন না। কারণ এটা দীর্ঘস্থায়ী নয়। এসবের জন্য আগে ইটের ভাটা বন্ধ করা জরুরি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পোড়া ইটের বিকল্প হিসাবে কংক্রিট ব্লক ব্যবহার করছে। তাই পরিবেশ রক্ষায় এদেশেও এর ব্যবহার বাড়াতে হবে।
মন্ত্রী জানান, ভাষানচরে রোহিঙ্গাদের আবাসনের যে পরিকল্পনা রয়েছে তা কংক্রিট ব্লক দিয়ে করা হবে। এছাড়া নোয়খালিতে পিডব্লিউডির ১০টি ১০ তলা বিল্ডিং এই কংক্রিট ব্লক দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। কংক্রিট ব্লকের ব্যবহার বাড়াতে ১০ বছরের উপর ট্যাক্স ফ্রি করা উচিত। অপরদিকে পোড়া ইটের উপর ট্যাক্স বাড়ানো উচিত।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, উন্নত দেশগুলোর পাশাপাশি চীন, থ্যাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়াসহ পৃথিবীর অনেক উন্নয়নশীল দেশেই প্রচলিত ইটের পরিবর্তে ভবন নির্মাণে বালি, সিমেন্ট, নুড়িপাথর দিয়ে বানানো ব্লক ব্যবহার করা হয়। এতে কার্বন নির্গমণ যেমন কমছে ফসলি জমিও রক্ষা পাচ্ছে। তাই ২০২০ সালের পর ঢাকাসহ সব বিভাগীয় শহরে ভবণ নির্মাণে পোড়া ইটের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং রিচার্স ইন্সিটিটিউটের এক তথ্য উল্লেখ করে আলোচকরা বলেন, দেশে এখন বছরে কম করে হলেও ১৭ দশমিক ২ বিলিয়ন পিস ইট তৈরি হচ্ছে। প্রতি মিলিয়ন ইট তৈরিতে পোড়াতে ২৪০ মিলিয়ন টন কয়লা পোড়াতে হয়। এর পাশাপাশি গ্রামঞ্চলে বনভূমি ধ্বংস করে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ ও বাঁশ। ইটভাটাগুলো থেকে বছরে কমপক্ষে ৯ দশমিক ৮ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হচ্ছে বায়ু মন্ডলে। যা দেশের মোট কার্বন ডাইঅক্সাইড নির্গমণের প্রায় ২৩ শতাংশ। ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে মোট আবাদি জমির পরিমান ছিল ২ কোটি ১৭ লাখ একর। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য মতে ১৯৮৪ সালে দেশে মোট আবাদি জমির পরিমাণ ছিল ২ কোটি ৩৮ হাজার একর। ১৯৯৭ সালে এসে কমে তা ১ কোটি ৭৪ লাখ ৪৯ হাজার একরে এবং সর্বোপরি ২০১২ সালে বাংলাদেশের আবাদি জমির পরিমান দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ৫৪ হাজার একর।
সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি অমিতোষ পাল, সাধারণ সম্পাদক মতিন আব্দুলাহ, বাংলাদেশ রেডিমিক্স কংক্রিট এসোসিয়েশনের সভাপতি প্রকৌশলী আবদুল আউয়াল, নগর পরিকল্পনাবিদ নিয়াজ রহমান, আদিলুর রহমান প্রমুখ