সুজন কৈরী : রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা ফরহাদ হোসেন (৫০) হত্যার ঘটনায় জড়িত দুইজনকে সনাক্ত করেছে পুলিশ। পেয়েছে তাদের পরিচয়ও। তারা পেশাদার খুনি। ফরহাদকে হত্যার পর চেকপোষ্টে পুলিশকে লক্ষ করেও গুলি ছুড়ে তারা।
তদন্তকারী সূত্র বলছে, হত্যাকা-ের পর পালিয়ে যাওয়ার সময় গুলশান লিঙ্ক রোডে তল্লাশি চৌকিতে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করে তারা। সিসি টিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে খুনীদের সনাক্ত করা গেছে। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
সূত্র জানায়, এলাকার ডিশ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে ফরহাদের সঙ্গে একটি পক্ষের বৈরিতা চলে আসছিল। ডিএমপির গুলশান বিভাগের ডিসির কার্যালয়ে তার বিরুদ্ধে এ বিষয়ে অভিযোগও ছিল। পরে এনিয়ে একাধিক বৈঠক হলেও ডিশ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা নেয়া বন্ধ করেননি তিনি। এছাড়া স্থানীয়ভাবে চলাচলকারী অটোরিকশাসহ অন্যান্য যানবাহন থেকে প্রাপ্ত চাঁদার ভাগাভাগি নিয়েও তার সঙ্গে বিরোধীদের দ্বন্দ্ব ছিল। এসব কারণেই কোনো একটি পক্ষ তাকে হত্যা করে থাকতে পারে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
ডিএমপির বাড্ডা জোনের সহকারি কমিশনার মো. আশরাফুল করিম বলেন, ফরহাদ হোসেনকে হত্যা করে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় পালিয়ে যায় খুনিরা। বাড্ডা-গুলশান লিংক রোডে পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে সিএনজিটি থামানো হয়। পুলিশের তল্লাশির সময় একজন সিএনজি থেকে নেমে সামনে চলে যায়। তখন তাকে ডাক দেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সে পুলিশকে লক্ষ করে এলোপাতাড়ি চারটি গুলি ছুড়ে দ্রুত সিএনজিযোগে পালিয়ে যায়।
তিনি বলেন, দুজনই পেশাদার খুনী। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের পর তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় গুলশান থানায় পৃথক মামলা দায়ের হয়েছে।
বাড্ডা থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী বলেন, হত্যাকা-ের ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি, প্রক্রিয়াধীন আছে। ব্যবসায়িক, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বকে সামনে রেখে ফরহাদ খুনের ঘটনার তদন্ত চলছে।
শুক্রবার দুপুরে উত্তর বাড্ডার আলীর মোড় এলাকার পাশে পূর্বাঞ্চল ১ নম্বর লেন সংলগ্ন বায়তুস সালাম জামে মসজিদে জুমার নামাজ পড়েন বাড্ডা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন। নামাজ শেষে বেরিয়ে আসার পরই দুই দুর্বৃত্ত প্রকাশ্যে গুলি করে। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।